রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট’র ইতিহাস রেড ক্রস/রেড ক্রিসেন্ট একটি বিশ্বব্যাপী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান৷ বিশ্বব্যাপী দুস্থ মানুষের সেবা তথা যুদ্ধে আহত ও যুদ্ধবন্দি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও দুঃখ লাঘবই রেড ক্রস/রেড ক্রিসেন্ট’র মূল লক্ষ৷ ১৮৬৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের নাগরিক জীন্ হেনরী ডুনান্ট, অন্য চার জন সদস্য নিয়ে ‘কমিটি অফ ফাইভ’ গঠন করেন৷ এই কমিটি ১৮৬৩ সালের ২৬ অক্টোবর ১৬টি দেশের প্রতিনিধি নিয়ে জেনেভায় প্রথম আনত্মর্জাতিক সম্মেলন আহ্বান করেন৷ উক্ত সম্মেলনে জীন্ হেনরী ডুনান্টের মহতী প্রস্তাবসমূহ গৃহীত হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে রেড ক্রস প্রতিষ্ঠা লাভ করে৷ মুসলিম বিশ্বে এটি রেড ক্রিসেন্ট নামে পরিচিত৷

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পাকিস্তান রেড ক্রস সোসাইটির পূর্ব পাকিস্তান ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের জাতীয় সোসাইটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সরকারের নিকট স্বীকৃতি লাভের জন্য আবেদন করে৷ ৪ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের এক আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটি গঠিত হয়৷ ৩১ মার্চ, ১৯৭৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটি আদেশ, ১৯৭৩ (পিও-২৬) জারি করেন৷ এই আদেশ বলে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটি স্বীকৃতি লাভ করে৷ ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের তেহরান সম্মেলনে বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে৷ ৪ এপ্রিল, ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে ‘বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি’র নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ করা হয়৷ শিক্ষার্থীদের মননশীলতা বৃদ্ধি ও আর্ত-মানবতার সেবায় নিয়োজিত রাখার উদ্দেশ্যে শিক্ষার পাশাপাশি রাজশাহী কলেজ বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটির কার্যক্রম অত্যান্ত গুরুত্ত্বের সাথে পরিচালনা করে আসছে৷

আর্ন্তজাতিক রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্টিত একটি আর্ন্তজাতিক মানবিক আন্দোলন যা মানুষের জীবন এবং স্বাস্থ্য রক্ষা, সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা এবং মানুষের দুর্ভোগ প্রতিরোধ ও লাঘব করার জন্য যাত্রা শুরু করেছিল কালের প্ররিক্রমায় তা আজ সারা বিশ্বের ১৮৮ দেশে জাতীয় পর্যায়ে তার কার্যক্রম পরিচালন করে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নামে প্রতিষ্টানটি কার্যক্রম শুরু এবং বর্তমানে দেশের প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্টানে তা চালু রয়েছে। কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজে ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজ ইউনিট নামে তার কার্যক্রম বজায় রেখে চলেছে।

কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ ইউনিত যেসকল সেবামুল্ক কার্যক্রম সক্রিয় ভুমিকা রেখে চলেছে তার মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন, রক্ত সংগ্রহ, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষনের আয়োজন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন উল্ল্যেখযোগ্য। আমি এই প্রতিষ্টানের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সুনাম বৃদ্ধির জন্য প্রতিষ্টানের সকল শিক্ষার্থীকে সচতেনতার সাথে সংগঠনটির সাথে যুক্ত হয়ে মানবিক আন্দোলনে নিজেদের সংযুক্ত হওয়ার আহ্বান করছি।

মোঃ আশরাফ আলী,
প্রভাষক,(দর্শন)
দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক,
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ ইউনিট।